
‘ পূর্বাচল ক্লাব দখলের ধান্ধা’ নিয়ে নানা আলোচনা অভিজাত অঙ্গনে l আলোচিত হয়ে উঠছে! আলোচনার তুঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি ও নেপথ্যের কোটি কোটি টাকার মেম্বারশিপ কেলেঙ্কারি
লাবণ্য চৌধুরী : ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম হাই প্রোফাইল ও অভিজাত ক্লাব পূর্বাচল ক্লাব লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন নাটক। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলানোর সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র এই ক্লাবের ওপর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এবার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সুনির্দিষ্ট দাপ্তরিক চিঠি। একদিকে সরকারের এই কঠোর নির্দেশনার চিঠি, অন্যদিকে ক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা শওকত আজিজ রাসেলের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে দেওয়া বিস্ফোরক বিবৃতি দুইয়ের মুখোমুখি অবস্থানে এখন ক্লাব পাড়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানের মূল সূত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেই আলোচিত চিঠি
গত চৌদ্দই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব মো সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়। গত এগারোই অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে ক্লাবের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি দশ সদস্যের শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ এক রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিককে। উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে গাজীপুর পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন এবং সদস্য হিসেবে আছেন কুমিল্লা নয় আসনের সংসদ সদস্য মো আবুল কালাম ও দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত চৌদ্দই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব মো সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়। গত এগারোই অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে ক্লাবের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি দশ সদস্যের শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় নারায়ণগঞ্জ এক রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিককে। উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে গাজীপুর পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন এবং সদস্য হিসেবে আছেন কুমিল্লা নয় আসনের সংসদ সদস্য মো আবুল কালাম ও দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
একটি প্রাইভেট লিমিটেড সামাজিক ক্লাবের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে অ্যাডহক কমিটি গঠন এবং সেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং ইঙ্গিতপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ক্লাবটির পেছনে যে বিশাল আর্থিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, এটি তারই বড় প্রমাণ।
শওকত আজিজ রাসেলের পাল্টা প্রতিরোধ ২৫ লাখ টাকার মেম্বারশিপ ও অদৃশ্য চাপ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই আদেশের পর বর্তমান সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তাঁর অবস্থান ও ভেতরের নানা গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থানরত এই সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত পাঁচই আগস্টের পর ক্লাবের পদগুলো শূন্য হলে নির্বাহী কমিটির সবার অনুরোধে ও সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই আদেশের পর বর্তমান সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তাঁর অবস্থান ও ভেতরের নানা গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থানরত এই সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত পাঁচই আগস্টের পর ক্লাবের পদগুলো শূন্য হলে নির্বাহী কমিটির সবার অনুরোধে ও সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
রাসেলের বিবৃতিতে সবচেয়ে বড় যে সত্যটি উঠে এসেছে তা হলো মেম্বারশিপ বাণিজ্য। বর্তমানে পূর্বাচল ক্লাবের একেকটি মেম্বারশিপের অফিশিয়াল ফি হচ্ছে পঁচিশ লাখ টাকা। রাসেল সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ক্লাবের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে নামমাত্র মূল্যে কিংবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই মেম্বারশিপগুলো দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর প্রবল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
তবে কোটি কোটি টাকার এই চাপের মুখেও তিনি একচুলও নতি স্বীকার করেননি। তাঁর সময়ে ক্লাবের মোট নয়শত আঠারো জন সদস্য সংখ্যার তালিকায় অবৈধভাবে একজন নতুন সদস্যকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আইনি লড়াই ও দখলের ধান্ধার আসল রহস্য
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো চিঠির পর শওকত আজিজ রাসেল একে সরাসরি বেআইনি ঘোষণা না করলেও এর এখতিয়ার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন, চিঠির আইনি বৈধতা ও গঠনতান্ত্রিক অবস্থান নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করতে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো চিঠির পর শওকত আজিজ রাসেল একে সরাসরি বেআইনি ঘোষণা না করলেও এর এখতিয়ার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন, চিঠির আইনি বৈধতা ও গঠনতান্ত্রিক অবস্থান নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করতে।
সাধারণ ক্লাব সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অ্যাডহক কমিটি এনে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই চেষ্টার আসল উদ্দেশ্য হলো দখলের ধান্ধা। বর্তমান কমিটিকে সরিয়ে যদি কোনো বিশেষ চক্র এই ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে পঁচিশ লাখ টাকা মূল্যের শত শত মেম্বারশিপ নিজেদের দলীয় বা পছন্দের লোকদের মাঝে হরিলুট করার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদকের শেষ কথা
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কার্যালয় এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার আইনি বৈধতা এখন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। শওকত আজিজ রাসেলের অনড় নীতি বনাম নতুন অ্যাডহক কমিটির রাজনৈতিক প্রভাব এই দুই পক্ষের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে ক্ষমতার পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে পূর্বাচল ক্লাব যে একটি বিশাল সিন্ডিকেটের দখলের ধান্ধার শিকারে পরিণত হয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কার্যালয় এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার আইনি বৈধতা এখন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। শওকত আজিজ রাসেলের অনড় নীতি বনাম নতুন অ্যাডহক কমিটির রাজনৈতিক প্রভাব এই দুই পক্ষের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে ক্ষমতার পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে পূর্বাচল ক্লাব যে একটি বিশাল সিন্ডিকেটের দখলের ধান্ধার শিকারে পরিণত হয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।



