অপরাধঅর্থনীতিবিশেষ প্রতিবেদন
নুর ইসলামের হাজার কোটির ডিজে বাণিজ্য

শেখ নুর ইসলাম-সিন্ডিকেটগুলো সাধারণ ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে সরাসরি বুকিং নেয় না। তারা স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপ্টেড সিক্রেট গ্রুপ ব্যবহার করে। সেখানে বিশেষ ‘ইনভাইটেশন কোড’ বা টোকেন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না।
শফিক রহমান : রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে ডিজে পার্টির নামে চলছে হাজার কোটি টাকার অন্ধকার সাম্রাজ্য! অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির, প্রভাবশালী শেখ নূর ইসলাম এবং লজিস্টিকস গডফাদার তুষার আহমেদসহ ২৩১ জনের এক
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি এখন ঢাকা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ট্রিপ্লেক্স বাড়ির আড়ালে টিকিট কেটে বসা এসব হাই-প্রোফাইল মাদক ও ডিজে পার্টি থেকে প্রতি বছর উড়ছে হাজার কোটি টাকা। পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ রাঙিয়ে চলা এই মাফিয়া নেটওয়ার্কের পুরো বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ডিজে বাণিজ্যের ‘ডিজিটাল ট্র্যাপ’ ও গোপন কোড
এই সিন্ডিকেটগুলো সাধারণ ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে সরাসরি বুকিং নেয় না। তারা স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপ্টেড সিক্রেট গ্রুপ ব্যবহার করে। সেখানে বিশেষ ‘ইনভাইটেশন কোড’ বা টোকেন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। প্রতিটি এন্ট্রির জন্য আলাদা গেট-পাস জেনারেট করা হয়।
এই সিন্ডিকেটগুলো সাধারণ ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে সরাসরি বুকিং নেয় না। তারা স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপ্টেড সিক্রেট গ্রুপ ব্যবহার করে। সেখানে বিশেষ ‘ইনভাইটেশন কোড’ বা টোকেন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। প্রতিটি এন্ট্রির জন্য আলাদা গেট-পাস জেনারেট করা হয়।
রাতের স্পটে ‘সিন্থেটিক ড্রাগস’-এর বিস্তার
সাধারণ মাদক বাদ দিয়ে এই ডিজে পার্টিগুলোতে কোকেন, এমডিএমএ (এক্সট্যাসি), ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং বিশেষ এক ধরনের লিকুইড ড্রাগসের মতো মারাত্মক ও ব্যয়বহুল সিন্থেটিক মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, যা মূলত উচ্চবিত্তের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে সরবরাহ করা হয়।
সাধারণ মাদক বাদ দিয়ে এই ডিজে পার্টিগুলোতে কোকেন, এমডিএমএ (এক্সট্যাসি), ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং বিশেষ এক ধরনের লিকুইড ড্রাগসের মতো মারাত্মক ও ব্যয়বহুল সিন্থেটিক মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, যা মূলত উচ্চবিত্তের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে সরবরাহ করা হয়।
ডিজে মাফিয়া ও মাদক সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড
- আবদুল্লাহ আল জহির (অতিরিক্ত ডিআইজি): নিজের ভাটারা পুলিশ হাউজিংয়ের ট্রিপ্লেক্স বাড়িকে বানিয়েছিলেন ডিজে বাণিজ্যের অঘোষিত হেডকোয়ার্টার। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়ালে বাড়ি ভাড়া দিয়ে প্রতি পার্টি থেকে তুলতেন সত্তর শতাংশ লভ্যাংশ। বর্তমানে তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে ক্লোজ করা হয়েছে।
- তুষার আহমেদ: এই হাজার কোটি টাকার পার্টি সাম্রাজ্যের প্রধান ক্যাশ ও লজিস্টিকস সাপ্লাইয়ার। কার কোটি টাকা কোথায় খাটবে, ডিজে পার্টির লাইটিং থেকে শুরু করে মাদক চোরাচালানের ফিন্যান্সিয়াল ব্যাকবোন সামলান এই গডফাদার।
- শেখ নূর ইসলাম: তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস বারের নেপথ্য ডন। তার ডেরায় হানা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া কোটি কোটি টাকার বিদেশি মদ ও ড্রাগস জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী।
- মাহবুবুল আলম: জহিরের ডেরার অপারেশনাল ম্যানেজার। field পর্যায়ে কাস্টমার ডিলিং এবং মাদকের সাপ্লাই চেইন সচল রাখতেন তিনি।
- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: সীমান্ত ও ঢাকার এলিট জোনে কাস্টমাইজড ডিজে পার্টির মূল ইভেন্ট প্ল্যানার, যার হাত ধরে পার্টিগুলোতে ঢুকতো কোকেন, এমডিএমএ-র মতো ডেডলি সিন্থেটিক ড্রাগস।
- মহিদুল ইসলাম: ডিজে পার্টির গ্রাউন্ড লেভেল কো-অর্ডিনেটর ও সিকিউরিটি ইনচার্জ।
- কাসফিয়া নিশাত: সিন্ডিকেটের সোশ্যাল মিডিয়া হান্টার। ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের সিক্রেট গ্রুপ ব্যবহার করে ঢাকার অভিজাত ঘরের তরুণ-তরুণীদের এই পার্টি ও অন্ধকার জগতে টানার মূল আড়কাঠি।
ডার্ক মানির আখড়া: নজরদারিতে থাকা সেই হাই-প্রোফাইল বারসমূহ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দারা কোটি কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি ও চোরাই মদের রমরমা বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়ে ঢাকার এই স্পটগুলোতে লাগাতার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দারা কোটি কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি ও চোরাই মদের রমরমা বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়ে ঢাকার এই স্পটগুলোতে লাগাতার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে:
- ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (তেজগাঁও)
- র ক্যানভাস রেস্তোরাঁ ও বার (গুলশান)
- মার্গারিটা লাউঞ্জ (গুলশান)
- হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড
- জার্মান ক্লাব (গুলশান-২, যেখান থেকে ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমসহ বিপুল অবৈধ মদ উদ্ধার করা হয়েছে)
২৩১ গডফাদারের নেটওয়ার্ক ও বর্তমান যুদ্ধ
গোয়েন্দা রিপোর্টের এক্সক্লুসিভ তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঢাকার নাইটলাইফ ও মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে ২৩১ জনের একটি মাস্টার সিন্ডিকেট। এরা কেউ সরাসরি সামনে আসে না। এয়ারবিএনবি-র মতো গ্লোবাল অ্যাপস এবং ফেসবুকের ইনভাইটেশন-অনলি সিক্রেট কোড ব্যবহার করে প্রতি রাতে এক একটি ট্রিপ্লেক্স বাড়ি বা রিসোর্টকে এরা বানিয়ে ফেলে মিনি ক্যাসিনো ও ডিজে বার। বর্তমানে সিআইডি ও র্যাবের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, এই ২৩১ জন গডফাদারের অবৈধ আয়ের উৎস এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ (জব্দ) করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় কাউকেই ছাড় দেবে না বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টের এক্সক্লুসিভ তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঢাকার নাইটলাইফ ও মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে ২৩১ জনের একটি মাস্টার সিন্ডিকেট। এরা কেউ সরাসরি সামনে আসে না। এয়ারবিএনবি-র মতো গ্লোবাল অ্যাপস এবং ফেসবুকের ইনভাইটেশন-অনলি সিক্রেট কোড ব্যবহার করে প্রতি রাতে এক একটি ট্রিপ্লেক্স বাড়ি বা রিসোর্টকে এরা বানিয়ে ফেলে মিনি ক্যাসিনো ও ডিজে বার। বর্তমানে সিআইডি ও র্যাবের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, এই ২৩১ জন গডফাদারের অবৈধ আয়ের উৎস এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ (জব্দ) করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় কাউকেই ছাড় দেবে না বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।



