অপরাধবিশেষ প্রতিবেদন
হান্নানের অফশোর সাম্রাজ্য: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে হান্নানের আরও এক গোপন সহযোগীর নাম বেরিয়ে আসে। তিনি হলেন সানজিদা আক্তার। হান্নান তাঁর অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে সানজিদার নামে বেনামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে সানজিদার নামে ১০টি ডামি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা হচ্ছিল।
শফিক রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন, ঢাকা: বহুল বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ তিন বছর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এয়ার চিফ मार्शल (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান কাতার এ পাকড়াও হয়েছে । ২০২৪ সালের জুনে অবসরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য ও কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সম্প্রতি কাতারে তাঁর গ্রেপ্তারের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দীর্ঘ অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে দেশ-বিদেশে গড়ে তোলা তাঁর এক বিশাল ও গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য। অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে হান্নানের সেই দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
বৈধ আয়ের আড়ালে অবৈধ সম্পদের পাহাড়
দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান সেলের নথিপত্র অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান তাঁর চাকরিজীবনের বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। কিন্তু এটি ছিল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অনুসন্ধানকারীরা তাঁর নামে থাকা মাত্র ছয়টি ব্যাংক হিসাব যাচাই করেই মোট ২৭ কোটি 6৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন সময়ে তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা ক্রমান্বয়ে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জিত।
দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান সেলের নথিপত্র অনুযায়ী, শেখ আব্দুল হান্নান তাঁর চাকরিজীবনের বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। কিন্তু এটি ছিল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অনুসন্ধানকারীরা তাঁর নামে থাকা মাত্র ছয়টি ব্যাংক হিসাব যাচাই করেই মোট ২৭ কোটি 6৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন সময়ে তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা ক্রমান্বয়ে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জিত।
স্ত্রীর নামে ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ও সম্পদের আড়াল
নিজের অবৈধ উর্পাজন আড়াল করতে হান্নান তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমকে প্রধান ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। দুদকের দ্বিতীয় মামলার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাহমিদা বেগমের নামে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ কেনা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে তাঁর ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে। তাহমিদা বেগমের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে সাকুল্যে ৩২টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে দুদক। essence এসব হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
নিজের অবৈধ উর্পাজন আড়াল করতে হান্নান তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমকে প্রধান ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। দুদকের দ্বিতীয় মামলার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাহমিদা বেগমের নামে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ কেনা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে তাঁর ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে। তাহমিদা বেগমের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে সাকুল্যে ৩২টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পেয়েছে দুদক। essence এসব হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
সহযোগীর নামে বেনামী সম্পত্তি ও ‘ডামি’ অ্যাকাউন্ট
তদন্তের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে হান্নানের আরও এক গোপন সহযোগীর নাম বেরিয়ে আসে। তিনি হলেন সানজিদা আক্তার। হান্নান তাঁর অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে সানজিদার নামে বেনামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে সানজিদার নামে ১০টি ডামি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা হচ্ছিল। অবৈধ অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন রাখার उद्देश्यেই যে এই বেনামী সম্পত্তি ও হিসাবগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দুদকের তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এই ফ্ল্যাট ও হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা হয়।
তদন্তের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে হান্নানের আরও এক গোপন সহযোগীর নাম বেরিয়ে আসে। তিনি হলেন সানজিদা আক্তার। হান্নান তাঁর অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে সানজিদার নামে বেনামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে সানজিদার নামে ১০টি ডামি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা হচ্ছিল। অবৈধ অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন রাখার उद्देश्यেই যে এই বেনামী সম্পত্তি ও হিসাবগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দুদকের তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এই ফ্ল্যাট ও হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা হয়।
অফশোর সাম্রাজ্য: কাতার, দুবাই ও কানাডা কানেকশন
দুদকের আন্তর্জাতিক উইং এবং গোয়েন্দা তথ্যের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হান্নানের দুর্নীতির পরিধি শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিমান বাহিনী প্রধানের পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশে পাচার করেছেন। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, কাতার ও
দুদকের আন্তর্জাতিক উইং এবং গোয়েন্দা তথ্যের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হান্নানের দুর্নীতির পরিধি শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিমান বাহিনী প্রধানের পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশে পাচার করেছেন। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, কাতার ও
দুবাইতে হান্নানের নিজস্ব গোপন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং অফশোর বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া বহুদূর কানাডায় তাঁর সন্তানদের নামে বিলাসবহুল বাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে, যা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা অর্থ দিয়ে করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ক্রোক হওয়া দেশীয় সম্পত্তি
দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই আদালত হান্নানের সার্বিক সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি দেশের ভেতরের সমস্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়। এই ক্রোক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপে, গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ক্রোক করা হয়। কাতার পুলিশের হাতে তাঁর এই গ্রেপ্তার দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর এই দুর্নীতি সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।
দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই আদালত হান্নানের সার্বিক সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি দেশের ভেতরের সমস্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়। এই ক্রোক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপে, গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ক্রোক করা হয়। কাতার পুলিশের হাতে তাঁর এই গ্রেপ্তার দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর এই দুর্নীতি সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।



