জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন
লটারিতে সাব রেজিস্টার বদলি করল আইনমন্ত্রী

কোনো সুপারিশ বা তদবির নয়, স্রেফ কাঁচের বাক্সে রাখা লটারির টিকিটে ভাগ্য নির্ধারণ করলো—কার অফিস হবে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে
শফিক রহমান : বদলি বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ মানেই কি কোটি টাকার টেবিল-বাণিজ্য আর গোপন সিন্ডিকেট? জনগণের এই দীর্ঘদিনের ধারণাকে এক ঝটকায় ভেঙে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হলো লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি।
৬ অক্টোবর ২০২৬ সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই যুগান্তকারী ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন। কোনো সুপারিশ বা তদবির নয়, স্রেফ কাঁচের বাক্সে রাখা লটারির টিকিটের ভাগ্য নির্ধারণ করলো—কার অফিস হবে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে আর কাকে যেতে হবে ঢাকার বাইরে। দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোর এই অভিনব উদ্যোগ দেশের বিচার ও ভূমি প্রশাসনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।
- সিন্ডিকেট ও ‘প্রাইজ পোস্টিং’ কালচার: দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমে নানা নেতিবাচক আলোচনা ছিল। বিশেষ করে ঢাকা বা এর আশেপাশের লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে (যা প্রশাসনিক ভাষায় ‘প্রাইজ পোস্টিং’ নামে পরিচিত) পদায়ন পেতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের তদবিরের অভিযোগ উঠত। এর ফলে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।
- স্বচ্ছতা ও সংস্কারের চাপ: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি দমন ও সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় আইন মন্ত্রণালয় তথাকথিত তদবির-বাণিজ্য বন্ধ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় একটি পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
- প্রথম ধাপ ও ঢাকার পরীক্ষা: এই নতুন সংস্কারের প্রথম পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে ঢাকা জেলার ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৮টি শূন্য পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে আবেদনকারী ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রারের নাম লটারির বাক্সে ঢোকানো হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লাইভ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে ১৮ জনের নাম টেনে তোলা হয়।
- প্রশাসনিক বার্তা: আইন মন্ত্রণালয় এই লটারির মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মেধা এবং নিয়মের বাইরে কোনো অশুভ প্রভাব খাটানোর সুযোগ আর নেই। তবে লটারিতে ভাগ্য খুললেও পার পাওয়ার সুযোগ নেই; মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে সাথে সাথে তাকে বরখাস্ত করা হবে। ঢাকার এই সফল মডেল পর্যায়ক্রমে সারা দেশের অন্যান্য জেলাতেও চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
লটারির মাধ্যমে ঢাকা জেলায় বদলি হওয়া ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রারের সম্পূর্ণ অফিশিয়াল তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
- মো. গোলাম মোর্তজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
- অমায়িক বাবু (সদর, সাতক্ষীরা)
- ফরিদা আক্তার (চিতোষী, চাঁদপুর)
- অজয় কুমার সাহা (সদর, চুয়াডাঙ্গা)
- অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম)
- মো. রাসেল মল্লিক (কুষ্টিয়া)
- গোবিন্দ সাহা (নরসিংদী)
- মো. মাসুম (পিরোজপুর)
- এস এম আবু মুসা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
- নাজনীন জাহান (সাতক্ষীরা)
- মোহাম্মদ হানিফ (কুমিল্লা)
- মনীষা রায় (ঠাকুরগাঁও)
- সিং মং থোয়াই (চট্টগ্রাম)
- রাজীব মজুমদার (টাঙ্গাইল)
- আলী আজগর (মুন্সিগঞ্জ)
- শর্মিলা আহমেদ শম্পা (মানিকগঞ্জ)
- আমিনা বেগম (যশোর)
- টিনু চাকমা (চট্টগ্রাম



