বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ৩টা থেকে এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানার এসআই নাজমুল হোসেন।
তিনি দৈনিক সত্য কথা প্রতিদিনকে বলেন, ভেতরে প্রায় চারশর মত ব্যক্তি আছে। তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বিকাল ৪টায় দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিনকে বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি ওই কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান হয়েছিল, আর ভেতরে একটি মিটিং চলছিল।
“এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে, এ পর্যন্ত ৩০-৪০ জন পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। এখনো আমাদের কার্যক্রম চলছে, পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
পুলিশ অভিযান সম্পর্কে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিনকে বলেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতা কর্মী কে নিয়ে প্রতিনিধি সভা করার সময় দুপুর আড়াইটায় তাদের ওপর ‘হামলা’ হয়েছে। “প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”
দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে বলতে দেখা যায়, “এখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে।”এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “এটা মিথ্যা কথা, আমাদের প্রতিনিধি সভা চলছিল।
“এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসবে কেন, একটা কিছু বলে আমাদের উপর আক্রমণ করাটাই বিষয়।”তিনি দাবি করেন, বেলা ৩টার দিকে পুলিশ এসে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জাসদ কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদ নেতাকর্মীদের আটক শুরু করে।
শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তপন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা—বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক নিয়ে আইসা এখানে ৫০০-৬০০ লোক উইঠা তারা একটা গোপন বৈঠক করছে। দেশে জ্বালাও-পোড়াও করার জন্য, দেশকে আরও অস্থিতিশীল করার জন্য।
“আপনারা যে কিছুদিন যাবৎ দেখতেছেন বিভিন্ন জায়গায় জ্বালাও-পোড়াও করতেছে, বোমা বাাজি করতেছে, এই তারই অংশবিশেষ আজকে তারা এখানে গোপন বৈঠক বসছে।
শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্য সচিব তপন দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, “এর মধ্যে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমরা খবর পাইছি, এখানে গোপন বৈঠক বসতেছে। তারপরে আমাদের কিছু লোকজন আইসা সত্যতা প্রমাণ পাইছে। পাওয়ার পরে ব্যাপকভাবে আমরা লোকজন আইসা তাদেরকে ব্যারিকেড দিছি। প্রশাসনের লোকজনকে আমরা খবর দিছি।
“তারপরে তো আপনারা দেখতেই আছেন প্রশাসনের লোকজন তাদেরকে এক এক করে গাড়িতে উঠাইয়া নিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত ৯৫ জনকে গাড়িতে উঠাইয়া থানায় নেওয়া হইছে। এখনো আরও অনেক লোক এখানে বাকি আছে।”