অপরাধলিড নিউজ

পল্লবীর ডন হাদির খুনী কে এই বাপ্পি?

হাদির খুনী পল্লবীর ডন বাপ্পির চ্যালাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন এর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কেউ যদি এদের সমন্ধে কোনো তথ্যে জেনে থাকেন তবে তা আমাদের হটলাইন নম্বরে ৮৮০১৫৭৭২৩৩০৫০ জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

শফিক রহমান : ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক হাদি হত্যা সিন্ডিকেটের গডফাদার সাবেক মিরপুর পল্লবীর ডন ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পি একসময় পরিবহন চাঁদাবাজ।সেখান থেকে কিছু টাকা কামিয়ে পরে শুরু করে গার্মেন্টের ঝুট কাপড় ব্যবসা। সেখান থেকে বড় অংকের টাকায় সন্ত্রাসের জাল বিস্তার করে করে ফুটপাত-সড়কে অস্থায়ী বাজার ও দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনেছেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। সে এর আগে পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিল।

একসময়কার ফুটপাতের চাঁদাবাজ থেকে সে পরিণত হয়েছে বটগাছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তার হলফনামায় ছিল মিল্ক ভিটা রোডে ৭০০ বর্গফুটের সেমিপাকা টিনশেড বাড়ি। পরে সেই টিনশেড বাড়িটি এখন দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা ভবন, নাম ‘চৌধুরী ভিলা’। ওই সময় তার কোনো গাড়ি না থাকলেও পরে কোটি টাকার হেরিয়ার জিপের মালিক বনে যান।এ ছাড়া আরও তিনটি গাড়ি। স্মার্ট ফ্যাশন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরও মালিক তিনি। এ ছাড়া ৫০ বিঘা জমির ওপর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান ব্রিকস নামে অটো ব্রিকফিল্ড করেছেন। রাজধানী ও মোরেলগঞ্জে আছে বিস্তর সম্পদ।

অনুসন্ধানে মিলেছে, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের এ-ব্লকের ২ নম্বর লেনের ৮ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ি, ৭ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর রোডের ৫৩৯ নম্বর বাড়ি, ৭ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কের ৬৩৯ নম্বর বাড়ি, মিল্ক ভিটা রোডের মোড়ে ৩৩/জে নম্বর বাড়ি, ৩ নম্বর লাইনের অন্ধ গলিতে দুটি প্লট, ৬ নম্বর লাইনে ৩৩৯ নম্বর প্লট ও অ্যাভিনিউ-৫-এ দোতলা বাড়ির মালিক এই বাপ্পি। তিন কাঠা থেকে সাড়ে ৯ কাঠা পর্যন্ত এসব প্লটের কোনোটিতে গড়ে উঠেছে গার্মেন্টস, কোনোটি ভাড়া দিয়েছেন, কোনোটিতে নিজে থাকেন আবার কোনোটিতে বসবাস করছেন তার লোকজন। রাজধানীর এ এলাকায় এখন প্রতি কাঠা জমির দাম সোয়া কোটি থেকে ২ কোটি টাকা।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত ২৭টি ইটভাটার মধ্যে মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান ব্রিকস নামে অটো ব্রিকফিল্ডটির মালিকানায় আছেন বাপ্পি। প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর এ ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জন্মনিবন্ধন, নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর নথিতে বাপ্পি তার নাম মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পি) উল্লেখ করলেও ইটভাটার লাইসেন্সের আবেদনে নিজের নাম তাইজুল ইসলাম (বাপ্পী) উল্লেখ করেছেন। লাইসেন্সের আবেদনে ঢাকা ও বাগেরহাটের দুটি ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বাপ্পি।

বাগেরহাটের ঠিকানা হিসেবে মোরেলগঞ্জের সন্ন্যাসী বাজারের পশুরবুনিয়া গ্রাম এবং ঢাকার ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কের ৬৩৯ নম্বর বাড়ির তথ্য উল্লেখ করেছেন। আয়কর নথিতে তার এ ব্যবসার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এলাকাবাসি জানায়, বাপ্পির শ্বশুরবাড়ি পশুরবুনিয়া। শ্বশুরের নাম কামরুজ্জামান খান। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর। তার তত্ত্বাবধানেই ইটভাটা পরিচালিত হয়। বাপ্পির গ্রামের বাড়িও মোরেলগঞ্জের শাকিনভাঙ্গা গ্রামে। সেখানেও ৪০ বিঘার বেশি জমি আছে তার।

মিরপুরে বাপ্পি বাহিনী

অনুসন্ধানে মিলেছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব বাহিনী ছিল বাপ্পির।এরা ঝুট কাপড়, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে চাঁদাবাজি, ফুটপাতে অস্থায়ী বাজার ও দোকানের চাঁদা আদায় করত।

৫ আগস্টের পর-

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাপ্পি আত্মগোপনে চলে গেলেও তার বাহিনী এখনও রয়েছে মিরপুর এলাকায়। তবে এরা সবাই জার্সি বদল করেছে। এদের অধিকাংশই এক সময় ছাত্রদল, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরা হচ্ছে ইকবাল, ইমন, সোহাগ, সাগর, সোহেল, সুমন, আড্ডু, সাইফুল, সুজন, জলিল, জিয়া, সোহেল, আলমগীর, শাহজাহান, রাসেল, পাপা, উমর, পারভেজ, এরশাদ, জয়, শুক্কুর, চঞ্চল, অনিক, সজল, শাহিন, বাহাদুর, সাহাব উদ্দিন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

ওজন মাপার যন্ত্রে বোমা-

২০২০ সালের ২৮ জুলাই রাতে কালশী কবরস্থানের কাছ থেকে রফিকুল ও শহিদুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, চারটি গুলি ও ওজন মাপার একটি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের। খবর দেওয়া হয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে। পরীক্ষার সময় ঘটে বিস্ফোরণ। এতে আহত হন চার পুলিশ সদস্য ও এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ২৩ সালের ২৯ নভেম্বর চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট দেয়।

হাদির খুনী পল্লবীর ডন বাপ্পির চ্যালাদের বিরুদ্ধে দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন এর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কেউ যদি এদের সমন্ধে কোনো তথ্যে জেনে থাকেন তবে তা আমাদের হটলাইন নম্বরে ৮৮০১৫৭৭২৩৩০৫০ জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button